মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

উদ্যোক্তার বক্তব্য ও সেবা গ্রহীতার মন্তব্য

 

ইউনিয়ন পরিষদ দেশের প্রাচীনতম স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। এটি তৃনমুল পর্যায়ে জনগণের সবচেয়ে কাছের সরকার। ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপিত তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক কেন্দ্র 'ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র (ইউআইএসসি)' পরিষদকে নতুন মাত্রা প্রদান করেছে। ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর কার্যালয় থেকে এবং নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)’র প্রশাসক মিস হেলেন ক্লার্ক ভোলা জেলার চর কুকরিমুকরি ইউনিয়ন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদে একটি করে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র (ইউআইএসসি) একযোগে উদ্বোধন করেন। ইউআইএসসি’র মূল লক্ষ্য হল, ইউনিয়ন পরিষদকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিনত করা, যাতে এই সব প্রতিষ্ঠান ২০২১ সালের মধ্যে একটি তথ্য ও জ্ঞান-ভিত্তিক দেশ প্রতিষ্ঠায় যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি এই সব কেন্দ্র সরকারি-বেসরকারি তথ্য ও সেবাসমূহ জনগনের কাছাকাছি নিয়ে যেতে, প্রযুক্তি বিভেদ দূর করতে ও সকল নাগরিককে তথ্য প্রবাহের আধুনিক ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করতে সুদুর প্রসারী ভূমিকা রাখতে পারে ।

‘জনগণের দোড়গোড়ায় সেবা’ (Service at Doorsteps)-এ ম্লোগানকে সামনে রেখে ইউআইএসসির যাত্রা শুরু হয়েছিল। ইউআইএসসি প্রতিষ্ঠার ফলে সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতিটি ক্ষেত্রে একটি অবাধ তথ্য প্রবাহ সৃষ্টি করা সম্ভবপর হয়েছে, যেখানে মানুষকে আর সেবার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে না, বরং সেবাই পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের দোরগোড়ায়। অবাধ তথ্য প্রবাহ জনগনের ক্ষমতায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত।

ইউনিয়ন পরিষদে তথ্য ও সেবাকেন্দ্র স্থাপনের ফলে সাধারন নাগরিকগণ এখন সহজে, কম খরচে ও ঝামেলাহীনভাবে প্রায় ৬০ ধরনের সরকারি-বেসরকারি সেবা ইউআইএসসি থেকে পাচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১১ কোটি সেবা প্রদান করা হয়েছে, এবং সেবা প্রদান করে ইউআইএসসি উদ্যোক্তারা মাসে সাড়ে ৫ কোটি টাকা আয় করছেন।

ইউআইএসসি'র উল্লেখযোগ্য সরকারি সেবাসমূহ হলো: জমির পর্চা, জীবন বীমা, পল্লী বিদ্যুতের বিল পরিশোধ, সরকারি ফরম, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, অনলাইন জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ভিজিএফ-ভিজিডি তালিকা, নাগরিক সনদ, নাগরিক আবেদন, কৃষি তথ্য, স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রভৃতি। বেসরকারি সেবাসমূহ হলো: মোবাইল ব্যাংকিং, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ছবি তোলা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ইমেইল, চাকুরির তথ্য, কম্পোজ, ব্রিটিশ কাউন্সিলের ইংরেজী শিক্ষা, ভিসা আবেদন ও ট্র্যাকিং, অনলাইনে টিকেট বুকিং, ট্রেভেল গাইড, ভিডিওতে কনফারেন্সিং, প্রিন্টিং, স্ক্যানিং, ফটোকপি, লেমিনেটিং প্রভৃতি।

তেতলী ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের কিছু উল্লেখযোগ্য সেবার চিত্র নিম্নরূপ:

  • কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান ইউআইএসসি’র একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেবা। একটি প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ন। বর্তমানে তেতলী ইউআইএসসি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ব্যবহার করে স্বল্পমূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। ২০১০ সালের নভেম্বর থেকে জুন ২০১৪ পর্যন্ত প্রায় ১৪৭ জন ছাত্র-ছাত্রী ও বিভিন্ন পেশাজীবী ইউআইএসসি থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের বেশিরভাগই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন।
  • ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানিত নাগরিকদের অত্র ইউআইএসসি থেকে; অনলাইন জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ছবি তোলা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ইমেইল, চাকুরির তথ্য, কম্পোজ, প্রিন্টিং, ফটোকপি, স্ক্যানিং, ভিসা আবেদন ও ট্র্যাকিং,কৃষি তথ্য, স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রভৃতি স্বল্প খরচে প্রদান করা হচ্ছে। সেবা গ্রহীতার মধ্যে নারী ও দরিদ্ররা বেশী সেবা নিতে আগ্রহী হচ্ছেন।
  • গ্রামের মানুষের কাছে বীমা সুবিধা পৌঁছানোর লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় বীমা প্রতিষ্ঠান, জীবন বীমা কর্পোরেশন অত্র ইউআইএসসি’তে জীবন বীমা সেবা চালু করেছে। এ পর্যন্ত মোট ৬৩ জন নাগরিক সেবা গ্রহণ করেছেন।
  • ব্যাংকিং সুবিধা বঞ্চিত তৃণমুল মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ২টি ব্যাংক (ডাচ বাংলা, ইসলামী ব্যাংক) অত্র ইউআইএসসি’তে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৯০০ (নয়শত) নাগরিক সেবা গ্রহণ করেছেন।
  • জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) অত্র ইউআইএসসি'র মাধ্যমে পল্লী বিদ্যুতের বিল প্রদান ও অনলাইনে মিটারের আবেদনের ব্যবস্থা করেছে।
  • গ্রামীণ জনপদের স্বাস্থ্য সুবিধা বঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সুবিধা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ই-তথ্য কোষ থেকে স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য ইউআইএসসির মাধ্যমে জনগণকে দেওয়ার ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

·         একজন দরিদ্র কৃষক ইউআইএসসি থেকে সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য পাওয়ার মধ্যে দিয়ে ক্ষমতায়িত হচ্ছে; এতে তার কৃষি উৎপাদন এবং উপার্জন-দুটোই বাড়ছে। একজন সাধারণ নাগরিক উপজেলা বা জেলা অফিসে না গিয়েও জমির পর্চার নকলের জন্য আবেদন করতে পারছেন, যা তার সময়, শ্রম ও অর্থের সাশ্রয় ঘটাচ্ছে। একজন গ্রামের শিক্ষার্থী তার নিজ গ্রামে বসেই এসএমএস’র মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারছেন। একজন অভিবাসী শ্রমিক ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে ইংরেজী শিখতে পারছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসেও একজন সাধারন মানুষ ভিডিও কনফারেন্স’র মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা নিতে পারছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই স্থানীয় দূর্যোগ পূর্বাভাস জানতে পারছেন। এভাবে ইউআইএসসি গ্রামীন মানুষকে বিভিন্ন সরকারি তথ্য প্রদানের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদকে ‘কার্যকর ও জনগনের প্রতিষ্ঠান’-এ পরিণত করেছে।

·         আর ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্রকে কার্যকর করে তুলেছেন ইউআইএসসি উদ্যোক্তা। তেতলী ইউআইএসসি কেন্দ্রে দু'জন করে উদ্যোক্তা কাজ করেন; একজন ছেলে ও একজন মেয়ে। একজন নারী উদ্যোক্তা থাকার ফলে কেন্দ্রে নারীদের সহজে প্রবেশগম্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। উদ্যোক্তা একজন বিনিয়োগকারী, চাকুরীজীবি নয় এবং জনগণকে সেবা প্রদানের মাধ্যমে অর্জিত আয় থেকেই উদ্যোক্তা তার জীবিকা নির্বাহ করেন। যেহেতু তথ্য ও সেবাকেন্দ্র পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপ মডেলে পরিচালিত, সেহেতু সরকারের পাশাপাশি উদ্যোক্তাগণও বিনিয়োগ করেছেন। ইতোমধ্যে আমরা (উদ্যোক্তাগণ) চরম প্রতিকূল অবস্থা অতিক্রম করে ভাল কাজ করছি এবং নাগরিকদের বিভিন্ন ধরনের সরকারি-বেসরকারি ই-সেবা প্রদানের মাধ্যমে মাসে ১৫-২০ হাজার টাকার বেশি আয় করতে সক্ষম হচ্ছি।

·         ইউনিয়ন পরিষদ দেশের প্রাচীনতম স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, যাকে শক্তিশালী ও কার্যকর সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করার জন্য অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থার পরিবর্তন একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ব্যাপার। এটি রাতারাতি একদিনেই সম্ভব নয়। ধীরে ধীরে প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পরিবর্তনসমূহ করতে হয়। এক সময়ে মানুষ ইউনিয়ন পরিষদ খুব বেশি ব্যবহার করতো না। কেবলমাত্র গ্রাম্য সালিশ-বিচারের কাজে ইউনিয়ন পরিষদ মাঝে-মধ্যে ব্যবহৃত হতো। মানু্ষের ধারনাই ছিল, ইউনিয়ন পরিষদ নিয়মিত খোলা হয় না। ইউআইএসসি এই ধারনাকে পরিবর্তন করে দিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে মানুষের প্রবেশগম্যতা বেড়েছে। অত্র ইউআইএসসি থেকে প্রতি মাসে ৩ শতাধিক মানুষ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ই-সেবা গ্রহন করছেন। ইউনিয়ন পরিষদে ইউআইএসসি স্থাপনের ফলে ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতা বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়েছে। ইউআইএসসি'র সফল অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে, দেশের ৩১৯টি পৌরসভায় 'পৌর তথ্য ও সেবাকেন্দ্র (পিআইএসসি)' ও ১১টি সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড পর্যায়ে ৪০৭টি 'নগর তথ্য ও সেবাকেন্দ্র (সিআইএসসি)' স্থাপন করা হয়েছে।

·         ইউআইএসসি’র কাজের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত স্থানীয় প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগন উপজেলা ই-গভ: ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জেলা ই-গভ: ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে তদারকিসহ ইউআইএসসি টেকসইকরনের কাজে সরাসরি সম্পৃক্ত। জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারগণ এ বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। ক্যাবিনেট ডিভিশন ও স্থানীয় সরকার বিভাগ এ কাজের সমন্বয় করে থাকেন। এর ফলে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতি বর্তমানে মানুষের আস্থা অনেক বেড়েছে।

·         ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইউআইএসসি পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে ইউআইএসসি’র কার্যক্রমসমূহ মনিটরিং করে থাকেন। উদ্যোক্তা ইউআইএসসির প্রতিদিনের আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন একসেস টু ইনফরমেশন এর মনিটরিং ওয়েব সাইটে প্রতিদিন প্রদান করেন এবং কোন সাফল্য বা অর্জন হলে ইউআইএসসির ব্লগে লিখা হয়। আর এ কাজে নিবিড়ভাবে সহযোগীতা করেন ইউনিয়ন পরিষদ সচিব। জেলা তথ্য কর্মকর্তা ইউআইএসসি’র প্রচার-প্রচারনায় সম্ভবপর উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকেন।  ফলে ইউনিয়ন পরিষদ সাধারন মানুষ, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সচিব ও সদস্যদের জন্য একটি প্রেস্টিজিয়াস প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। যার কার্যক্রম তেতলী ইউআইএসসিতেও চলছে।

সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সমূহঃ

·         ইউআইএসিতে জনগণকে সার্বক্ষণিক সেবা দিতে হলে চাই নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নিরবিচ্ছিন্ন দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ। এসব কিছু মোকাবেলা করে জনগণকে সার্বক্ষণিক সেবা প্রদান করা একটি চ্যালেঞ্জ ও যা একটি বিরাট সমস্যা।

·         সরকারী কিছু ওয়েবসাইট আছে যাতে কাজ করতে গিয়ে সার্ভার আউটপুটের সমস্যা হয় এবং ওয়েবসাইট বন্ধ থাকে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য প্রত্যাশাঃ

·         সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করে বলতে চাই উক্ত সমস্যা বাংলাদেশের বেশির ভাগ এলাকায় যেন না থাকে তার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া এবং সর্বপরি সারা বাংলাদেশে চাই নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নিরবিচ্ছিন্ন দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ।

·         সরকারের সাথে মিলে স্বাধীন ভাবে কাজ করার জন্য ইউআইএসি প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ী করা ও উদ্যোক্তাদেরকে সরকারী করা করা।

পরিশেষে বলতে চাই, পৃথিবীর অনেক দেশই পরীক্ষামূলকভাবে টেলিসেন্টার, ওয়ান-স্টপ-সার্ভিস এবং ইনফরমেশন সেন্টার চালু করেছে; কিন্তু এমন কোন দেশের কথা জানা নেই যারা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে একযোগে উদ্বুদ্ধ করে সারাদেশে তথ্যকেন্দ্র স্থাপন এবং কেন্দ্রসমূহকে গণমূখী করতে পেরেছে। ইউআইএসসি স্থাপনের মাধ্যমে জনগনের দোড়গোড়ায় সরকারি-বেসরকারি সেবা পৌঁছানো, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির কাজ একসাথে হয়েছে। বাংলাদেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় এটি ছিল অচিন্তনীয়, এবং বলতে বাঁধা নেই। এটি বিশ্ব বাস্তবতায়ও অকল্পনীয়।

 

সেবাগ্রহীতাগণের মতামতঃ

(১) সেবা গ্রহীতার নামঃ রাহেনা বেগম। সেবা গ্রহীতার ঠিকানাঃ গ্রামঃ দক্ষিণ বলদী, তেতলী ইউপি, দক্ষিণ সুরমা, সিলেট।

আমি ইউআইএসসির একজন নতুন সেবা গ্রহীতা। আমি ইউআইএসসি থেকে সেবা গ্রহণের পূর্বে, সিলেট শহর থেকে কম্পোজ, প্রিন্টিং, ই-মেইল ইত্যাদি কাজ করে আসছি। বিগত দুই দিন আগে একটি লিফলেট দেখে জানতে পারলাম যে, আমাদের তেতলী ইউনিয়নের ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে কম্পোজ, প্রিন্টিং, ই-মেইল সহ অন্যান্য সেবা প্রদান করা হচ্ছে। আমি ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে একটি কম্পোজের কাজের জন্য যাই। এবং সেখানে গিয়ে দেখতে পাই দুইজন উদ্যোক্তা ও দুইজন সহকারী উদ্যোক্তা কাজ করছেন। আমি একজনকে বলি- ভাই আমার একটি কম্পোজের কাজ ছিল, তাৎক্ষণিক ঐখানে উপস্থিত প্রধান উদ্যোক্তা আমাকে আমার কম্পোজের কাজটি করে প্রিন্ট করে দেন। এবং তিনি ঐ কম্পোজ ও প্রিন্টিং এর সার্ভিস চার্জ বাবদ আমার কাছ থেকে  ১৫ টাকা নেন। পরে আমি চিন্তা করে দেখলাম। যেখানে আমার শহরে যাতায়াতে ৪০ টাকা ভাড়া লাগে এবং শহরের দোকানে কম্পোজ ও প্রিন্টিং বাবদ ২৫ টাকা, মোট ৪০+২৫=৬৫ টাকা লাগে, সেই যায়গায় মাত্র ১৫ টাকায় আমার কাজ কম সময়ে কম খরচে বাড়ীর পাশে পাচ্ছি। তাই ইউআইএসসি নিঃসন্দেহে একটি ভালো প্রতিষ্ঠান এবং সেবা পাওয়ার ভালো জায়গা।

(২) সেবা গ্রহীতার নামঃ স্বপ্না রাণী দাশ। সেবা গ্রহীতার ঠিকানাঃ প্রধান শিক্ষক, তেলীবাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেতলী ইউপি, দক্ষিণ সুরমা, সিলেট।

আমি ইউআইএসসির একজন সেবা গ্রহীতা। আমি ইউআইএসসি থেকে সেবা গ্রহণের পূর্বে, উপজেলা ও সিলেট শহর থেকে বিদ্যালয়ের তথ্য ডাটা এন্ট্রি, কম্পোজ, প্রিন্টিং, ই-মেইল ইত্যাদি কাজ করে আসছি। তেতলী ইউআইএসসির প্রধান উদ্যোক্তা আমাকে আমার বিদ্যালয়ের তথ্য ডাটা এন্ট্রি, কম্পোজ, প্রিন্টিং, ই-মেইল ইত্যাদি কাজ দেন। তিনি ঐ কম্পোজ ও প্রিন্টিং এর সার্ভিস চার্জ বাবদ আমার কাছ থেকে সর্ব নিন্ম চার্জ গ্রহণ করেন। যেখানে আমার শহরে বা উপজেলায় যাতায়াতে ১০০ টাকা ভাড়া লাগে এবং শহরের দোকানে বিদ্যালয়ের তথ্য ডাটা এন্ট্রি কাজ করেত ১ সপ্তাহ সময় ও ৫০০ টাকা লাগে, সেই যায়গায় ইউআইএসসিতে মাত্র ২ দিনে ১৫০ টাকায় আমার কাজ কম সময়ে কম খরচে বাড়তি ঝামেলা ছাড়াই হাতের কাছে পাচ্ছি। তাই ইউআইএসসি নিঃসন্দেহে একটি ভালো প্রতিষ্ঠান এবং সেবা পাওয়ার ভালো জায়গা।

(৩) সেবা গ্রহীতার নামঃ ফয়েজ আহমদ। সেবা গ্রহীতার ঠিকানাঃ গ্রাম আদালত সহকারী, তেতলী ইউপি, দক্ষিণ সুরমা, সিলেট।

আমি ইউআইএসসির একজন সেবা গ্রহীতা। আমার একটি ই-মেইল আইডি খোলার প্রয়োজন ছিল। তাই আমি তেতলী ইউআইএসসি থেকে একটি ইমেইল আইডি খোলার জন্য যাই এবং সেখানের উদ্যোক্তা খিজির আহমদ চৌধুরী আমাকে মাত্র কয়েক মিনিটে একটি ই-মেইল আইডি খুলে দেন এবং এটি তিনি আমাকে ফ্রি করে দেন। তিনি বলেন, আমরা ইমেইল আইডি, ফেসবুক আইডি বিনামূল্যে করে দেই। তাই আমার সার্ভির চার্জ দেওয়ার কোন প্রয়োজন হয় নাই। প্রথম দিন ভালো সার্ভিস পাওয়ার পর পরের দিন গেলাম ইউআইএসসিতে, কিন্তু, সেদিন পড়লাম মহা বিড়ম্বনায়, প্রায় ৩ ঘন্টায় আমি আমার ভাইয়ের অনলাইনে ভর্তি ফরম পূরণ করে প্রিন্ট করলাম। পরে বুঝতে পারল উদ্যোক্তাদের চেষ্টার কোন ত্রুটি ছিলনা, সমস্যা হলো বিদ্যুৎ নেই এবং ইন্টারনেটের সমস্যা ছিল। এই সাময়িক সমস্যার কারণে উদ্যোক্তা আমাকে শান্তনা দেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ধর্য্যধারণ করে সেবা গ্রহণের জন্য আমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানান। আমি আসার সময় বিদ্যুত ও ইন্টারনেট সমস্যা নিরসনের জন্য চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে অনুরোধ করে আসি। এবং আমি উদ্যোক্তাগণের ব্যবহারে সন্তুষ প্রকাশ করি ও তাদের ধন্যবাদ জানাই।


Share with :

Facebook Twitter